July 29, 2026, 5:31 pm
শিরোনামঃ
গ্রাবজো রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন ষড়যন্ত্রের শিকার এলজিইডি অফিস সহকারী হারুন:সম্মানহানির উদ্দেশ্যে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা প্রধানমন্ত্রীকে দুটি দুর্লভ ছবি উপহার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ এম স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত এ এম স্কুল এ্যান্ড কলেজে রঙে-ঐতিহ্যে বর্ণিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত নরসিংদীর২২তম জেলা প্রশাসক- ইসরাত জাহান কেয়া মাধবদী থানায় সেবার নতুন দিগন্ত: ওসি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কালীগঞ্জে ইস্টার সানডে উপলক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সরকারি জমি আত্মসাৎ মামলায় সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন ২০ মে মাদারীপুরে ৪দিনের অনশনে ফিরে পেলেন স্ত্রী

নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড ও স্টিকার বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: যোগ্যরা বঞ্চিত

Reporter Name

নাসির উদ্দীন বুলবুল: নির্বাচন কমিশন জানেই না পত্রিকার প্রধান সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও ক্যামেরাম্যান যে সাংবাদিক। ​আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন পর্যবেক্ষক কার্ড এবং গাড়ির স্টিকার বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করা এবং প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র আপডেট থাকা সত্ত্বেও অনেক পেশাদার পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মী কার্ড পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, কোনো নীতিমালার তোয়াক্কা না করে কেবল ‘বিশেষ পরিচয়’ কিংবা প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে অনেকে অনায়াসেই কার্ড ও স্টিকার বাগিয়ে নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আগারগাঁও নির্বাচন কমিশন অফিসে সকাল সোয়া ১০টায় সংবাদকর্মীরা কার্ড আনতে গিয়ে ২ নং বুথের কর্মকর্তা আসমা আক্তার কর্তৃক হয়রানীর শিকার হয়েছেন।তিনি জানেই না পত্রিকার প্রধান সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও ক্যামেরাম্যান যে সাংবাদিক। যেখানে নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে নিবন্ধনের প্রমানপত্র (যদি থাকে) ও PID/Accreditation কার্ড (যদি থাকে) সকল প্রমানপত্র দেওয়ার পরেও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা আসমা আক্তার PID/Accreditation কার্ডের জন্য সাংবাদিকদের হয়রানী করেন।তিনি বলে পত্রিকার প্রধান সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক ও ক্যামেরাম্যান কি সাংবাদিক? তাদের কার্ড দেয়া যাবেনা, PID/Accreditation কার্ড প্রদান করতে হবে।
নির্বাচন কমিশন সাংবাদিকদের কার্ড করতে আবেদন ফরম বানিয়েছে, যেখানে ড্রাইভার ও সাংবাদিকের তথ্যের নিচে সাংবাদিকদের পদবী রেখেছে সহায়ক স্টাফ হিসেবে। নির্বাচন কমিশন জানেই না বাংলাদেশের গণমাধ্যম “ক্যামেরাম্যানদের” বহু আগে থেকেই “চিত্র সাংবাদিক’ পদবীতে পরিচয়পত্র প্রদান করে এবং গণমাধ্যমে কর্মরত অধিকাংশ চিত্র সাংবাদিক অনার্স ও মাস্টার্স পাশ।নির্বাচন কমিশন কর্তৃক সাংবাদিকদের সাথে এধরনের আচরনে প্রশ্ন উঠেছে নির্বাচন কমিশন কি কোন রাজনৈতিক দলের এজেন্টা হিসেবে কাজ করছে? শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ইসির ওয়েবসাইট থেকে ১৪ হাজার সাংবাদিকের ‌‘তথ্য ফাঁসের’ অভিযোগ উঠেছে সংস্থাটির বিরুদ্ধে।
​যোগ্যদের ভোগান্তি, অযোগ্যদের দাপট
​মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষক এবং সংবাদকর্মী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু বারবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও তারা কার্ড সংগ্রহ করতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
​ভুক্তভোগী এক সাংবাদিক পর্যবেক্ষক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা সব নিয়ম মেনে আবেদন করেছি, সব কাগজপত্র আপডেট আছে। অথচ আমাদের কার্ড দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু দেখছি যাদের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বা যারা এই কাজের সাথে যুক্তই না, তারা কেবল অমুক-তমুক ‘ভাইয়ের’ পরিচয় দিয়ে কার্ড ও স্টিকার নিয়ে যাচ্ছে।”
​অনুমোদনহীন স্টিকারে সয়লাব রাস্তা
​অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচন কমিশনের নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনেক ব্যক্তিগত গাড়িতেও ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষক’ বা ‘জরুরি নির্বাচন কাজে নিয়োজিত’ স্টিকার ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রভাবশালীদের তদবিরে এসব স্টিকার বিতরণ করা হয়েছে। এতে প্রকৃত পর্যবেক্ষকদের কাজ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়েও জনমনে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে নামমাত্র অনলাইন ও ভুঁইফোড় কিছু সংবাদপত্রের পরিচয় দিয়ে এসব সুযোগ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
​সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য
​সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন কর্মচারী স্বীকার করেন যে, “উপর মহলের চাপ এবং রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অনেক সময় নিয়ম শিথিল করে কার্ড ইস্যু করতে হয়। ফলে যোগ্যদের তালিকায় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।”
​বিশ্লেষকদের উদ্বেগ
​নির্বাচন বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি প্রকৃত পর্যবেক্ষকদের কার্ড না দিয়ে অপেশাদার ও দলীয় ব্যক্তিদের এসব সুযোগ দেওয়া হয়, তবে নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জাল কার্ড ও স্টিকারধারী ব্যক্তিরা নির্বাচনের সময় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে এবং প্রকৃত তথ্য গোপন করতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
​এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা জরুরি ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ এবং একটি স্বচ্ছ তালিকা প্রণয়নের জোর দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page