নিউজ ডেস্ক: ওয়ার্ল্ড ওয়াচ সোসাইটি”র উদ্যোগে শহিদ বুদ্ধিজীবি হত্যা দিবসে রবিবার( ১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে “ভূমিকম্প : সচেতনতা ও আমাদের করনীয়” শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
“ওয়ার্ল্ড ওয়াচ সোসাইটি” এর চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফর রহমান এর সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভূমিকম্প সচেতনতা বিষয়ক একটি ‘কী নোট পেপার’ উপস্থাপনা করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মেজর (অব.) এ কে এম শাকিল নেওয়াজ।
এ সময় আলোচনায় অংশ নেন ভূ-তত্ত্ব ও ভূমিকম্প প্রকৌ শল বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়(বুয়েট) এর অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী, দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ইউএনডিপি’র প্রফেসর ড. মাহমুদুল ইসলাম, প্রমুখ।
আগামীতে ভূমিকম্প হতে রক্ষা পেতে আমাদের কি করতে হবে, কিভাবে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হবে সে বিষয়ে দেশবাসীকে সচেতনতা কল্পে আয়োজিত আলোচনা সভায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক ক্রীড়া সম্পাদক ও ওয়ার্ল্ড ওয়াচ সোসাইটির পরিচালক কাজী ইমরুল কবীর সুমন বলেন, ভূমিকম্পের বিষয়ে আমাদের অভিজ্ঞতা কম। সেজন্য এর ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আমাদের দ্রুত প্রস্তুতি নিতে হবে। আমরা যদি সেই প্রস্তুতি এখন না নেই তাহলে ভূমিকম্পের কারণে নতুন করে মহাবিপর্যায় নেমে আসবে বাংলাদেশে। ভূমিকম্পের দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুতির বিকল্প নেই’।
দুর্যোগ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ ইউএনডিপি’র প্রফেসর ড. মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ একটা সময় দুর্যোগ হওয়ার পর সবাই কাজ করতো। আমরা এখন দুর্যোগ হওয়ার আগে ও পরের বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছি। ফায়ার সার্ভিসের নাম হচ্ছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। সিভিল ডিফেন্সের বিষয়ে আমাদের আরো বেশী গুরুত্ব দিতে হবে। দ্রুত দুর্যোগের প্রস্তুতি নিতে হবে।’
অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ব্রি. জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান বলেন, ‘পলিটিক্যাল যারা দায়িত্বে থাকবে তাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। স্মার্ট পলিটিক্যাল দলগুলোকে মানুষের প্রাণ রক্ষার দায়িত্ব নিতে হবে।’
ভূ তত্ত্ব ও ভূমিকম্প প্রকৌশল বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) এর অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ‘ডিজাস্টার সাইন্স’ কে আমাদের আরো গুরুত্ব দিতে হবে। সবাই আফটার ‘আর্থকোয়াক’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। ভূমিকম্পের প্রথম ২০ সেকেন্ড খুব ‘ক্রুশিয়াল’। সে সময় ভবন টিকে থাকবে, নাকি ভেঙ্গে যাবে সেটা গুরুত্বপূর্ণ। তুরস্কে ৫০ হাজার লোক মারা গেছে শুধু বিল্ডিং ধ্বসে। একটা মানুষকে উদ্ধারে কিন্তু বিপুল পরিমাণ টাকার প্রয়োজন। রানা প্লাজার ঘটনার পর অনেক বিল্ডিং নতুন করে মজবুতিকরণ করা হয়েছে। ভূমিকম্প প্রবনতা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের ভবনগুলো মজবুত আছে কিনা সেটা দেখতে হবে সবাইকে। মব ড্রিল করতে হবে। পুরনো ঢাকার মাটি ভালো, নতুন ঢাকার মাটি ভালো না। তবে, পুরনো ঢাকায় ভবনের শক্তি কমে যাওয়ার কারনে ভবনধ্বস হতে পারে। অন্যদিকে নতুন ঢাকায় মাটির কারণে ভবনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। ভূমিকম্পের পর গ্রীন, ইয়েলো, রেড এ তিন কালারে সকল ভবনকে চিহ্নিত করা উচিত। বর্তমানে ভূমিকম্প প্রকোপের পর সকল ভবনকে মার্কিং করা উচিত ছিল। ঢাকার ৭০ ভাগ ভবনে হালকা ফাটল রয়েছে। কোনো ভবনে ঝুঁকি আছে কিনা সেটা দেখতে হবে সবাইকে। রাজউক নতুন করে নোটিশ দিয়ে বিল্ডিং চেক করে সার্টিফিকেট দেয়ার ব্যবস্থা করতে পারে। ভবন শক্ত হলে ভূমিকম্পের সময় মাথায় হাত রেখে দেয়াল ঘেঁষে দাঁড়ালে কিছুটা রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।’
অনুষ্ঠানে “ওয়ার্ল্ড ওয়াচ সোসাইটি”র চেয়ারম্যান এডভোকেট লুৎফর রহমান বলেন, ‘ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতি কমাতে কি করনীয় সে বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলগুলোর এজেন্ডায় রাখতে চাই আমরা। সেজন্য এরকম ভূমিকম্প সচেতনাতামূলক অনুষ্ঠান আমরা আগামীতে আরো আয়োজন করতে চাই। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা এ ধরনের সামাজিক কাজ করতে আরো বেশী আগ্রহী হবো।’
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও ওয়াকিবহাল মহলের মতেভূমিকম্প আতঙ্ক পেয়ে বসেছে আমাদের। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি থেকে নিজেদের বাঁচাতে কি করতে হবে এ নিয়ে চিন্তিত সবাই। বাংলাদেশে আমরা যারা থাকি তাদের খুব কম সংখ্যক লোকেরই ভূমিকম্প বিষয়ক বাস্তব অভিজ্ঞতা আছে। এতদিন ভূমিকম্প নিয়ে এদেশের মানুষ খুব একটা ভাবেনি। তাদের ধারণা ছিল এশিয়ার জাপান, চীন অথবা ইউরোপ, আমেরিকার কিছু দেশে হয়তো ভূমিকম্প হয়, আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত হয়। নেপাল, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, মায়ানমার, ভারতের পর বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সময়ের কিছু ভূ-কম্পন নতুন করে চিন্তা ভাবনার খোরাক যুগিয়েছে। একটি সমন্বিত পরিকল্পনা,গণ সচেতনতামূলক কার্যক্রম ও প্রস্তুতি অত্যন্ত জরুরী।