রণি শিকদার : রাজধানীর উত্তরা বিআরটিএ দুর্নীতির আখড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ বাণিজ্য চলে এ যেন দেখার কেউ নেই। আর এসব নিয়ন্ত্রণে জীবন নামক এক দালালের বিরুদ্ধে গুরুতরো অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রমতে, প্রতি লাইসেন্স বাবদ ৩০০০ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। প্রতিটা সেক্টরে ধাপে ধাপ এভাবে টাকা নিয়ে তাদের কার্যক্রম চালায়। ঘুষ ছাড়া কোন সেবাই পাওয়া যায় না উত্তরা বিআরটিএ। প্রায় ৩০০ জনের মত দালাল কাজ করছে উত্তরা বিআরটিএ আর এসব দালালের মাধ্যমেই ঘোষের টাকা উপর লেভেলের কর্মকর্তার কাছে চলে যায়। এসব ঘুষের টাকা বাগ বাটোয়া করে জীবন।
জীবনের কেরামতিতে ঘুস দিয়েই পাশ করা যায় ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায়; দক্ষতা প্রমাণের দরকার হয় না। ঘুস দিয়েই ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়া যায় ফিটনেসবিহীন গাড়ির।
দালালদের বিরুদ্ধে মাঝে মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযান চালানো হয়। কিছুদিন পরিস্থিতি অপেক্ষাকৃত ভালো থাকে; তারপর আবার সবকিছু আগের মতো। এর কারণ দালালদের তৎপরতা চলে বিআরটিএ’র একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে। মূলত তারাই দালালদের পৃষ্ঠপোষক। তাই বন্ধ হয় না বিআরটিএ কার্যালয়ের দুর্নীতি এবং দালালদের অপতৎপরতায় প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ বাণিজ্য চলে।
লাইসেন্স করতে আসা একজন কাস্টমারের পরিচয়ে বহুল আলোচিত জীবনের কাছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন- আমি যতদিন আছি চলবে এ অফিসের সকল কর্মকতা’ আমার কথা শুনে এবং কাজ করে। আমি চাই মানুষ সহজে তাদের কাজকর্ম গুলো আমার কাছে আসে এবং একজন মানুষ যদি দুই তিন বার বিআরটি অফিসে আসে তাহলে অনেক গাড়ি ভাড়া খরচ হয় সময় অপচয় হয়। অথচ আমার লোকদের কাছে তার কাজ বুঝিয়ে দিলে তকে বারবার এই বিআরটি অফিসে আসতে হয় না। এটা কি উপকার না? আমি মানছি বাড়তি কিছু টাকা নেই কিন্তু উপকার হচ্ছে তো।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে,উত্তরা বিআরটি দালান ছাড়া কোনো কাজেই হয় না। দালাল ছাড়া যদি কোন কাজ করতে যান তাহলে আপনাকে পথে পথে হয়রানি হতে হবে। অথচ দালাল চক্র দিয়ে কাজ করতে গেলে খুব সহজেই আপনি কাজ করতে পারবেন । আপনার বাড়তি কিছু টাকা খরচ করলেই ঘরে বসে লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। আর দালাল চক্রের পাওয়ার হচ্ছেন জীবন।
শুধু দালালী করেই শেষ নয় বিআরটি এ অফিসে আশেপাশে গড়ে উঠা দোকান পাট থেকে চাঁদ তুলছে তার ভাইয়েরা। অফিসে বড় কমকর্তা পরিচয় জীবন আরও অনেক দুনীতি করছে।
ভূক্তভোগী ও ওয়াকিবহাল মহলের মতে জীবনসহ দালাল চক্রের সকল সদস্যদের গ্রেফতার এবং সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ অফিসের দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে বিভাগীয় ব্যবস্থাগ্রহণ অতীব জরুরী।