রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ চাকুরি দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে দখল করে নেওয়া হয়েছে গরীব কৃষকের জমি। সেখানে গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। অথচ চাকুরির কোনো খবর নেই। চাকুরি ও জমি দুইটিই হারিয়ে দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন ভুক্তভোগী কৃষক । জানা যায়, জামালপুরের মেলান্দহে দুরমুঠ ইউনিয়নের সরুলিয়া গ্রামের দরিদ্র কৃষক নুর ইসলাম ওরফে টেপা মণ্ডলের একটুকরো জমি ছিল একই গ্রামের জাঙ্গালিয়া গ্রামের মির্জা আজম দাখিল মাদ্রাসার পাশে। নুর ইসলাম এর ছেলে সাগরকে মাদ্রাসায় চাকরি দেওয়ার কথা বলে জমিটুকু লিখে চায় মাদ্রাসার সুপার ও ম্যানেজিং কমিটি। তিনি তাতে রাজি না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মির্জা এমপি তাকে ডেকে নেন। জমির বিনিময়ে মির্জা আজম তার ছেলেকে শতভাগ চাকুরির নিশ্চয়তা দেন। অগত্যা তিনি রাজি হতে বাধ্য হন। কিন্তু তার প্রায় বছর গড়িয়ে গেলেও আজো দেখা মিলেনি চাকুরির। অথচ তার জমিতে ইতোমধ্যে গড়ে তুলেছে বহুতল ভবন। এদিকে ৫ গত অগাস্টে ছাত্র জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে আওয়ামী সরকার পদত্যাগ করায় এখন আর তাদের সরকার নেই। নেই তাদের এমপি। নেই সেই কমিটি। এমতাবস্থায়, জমি ও চাকুরী দুটিই অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ফলে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষক ও তার পরিবার। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে মাদ্রাসার সুপার ও স্থানীয়দের দ্বারেদ্বারে ঘুরছেন তারা। জমির মালিক নুর ইসলাম জানান, এবছর মার্চ মাসে দেওয়া সার্কোলারে আমার ছেলেকে চাকুরী দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, রহস্যজনক কারণে সুপার আমার ছেলেকে চাকুরী দেয় নাই। উপরন্তু আমার ১৫ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে তাতে ৪তলা ভবন করে ফেলেছে। এব্যাপারে মির্জা আজম দাখিল মাদ্রাসার সুপারিন্টেন্ডেন্ট আক্রাম হোসেন বলেন, আমাদের আভ্যান্তরীণ একটি সমস্যায় নুর ইসলামের ছেলেকে চাকুরী দিতে পারিনি। এখন দেশের যে অবস্থা তাতে কবে নাগাদ যে তার ছেলের চাকুরীর ব্যবস্থা করা যাবে তা সঠিক করে বলা যাচ্ছে না।