বান্দরবান সংবাদদাতা: বান্দরবানের রুমা জোনে অভিযান চলাকালিন সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণে ঘটনাস্থলেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান, এসবিপি।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০ টার দিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের আস্তানায় টহল অভিযানে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে।
এসময় তিনজন সন্ত্রাসীও নিহত হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ১টি এসএমজি, ২৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩টি ম্যাগাজিন, ৩টি দেশীয় বন্দুক, ৫ রাউন্ড দেশীয় বন্দুকের গুলি, ৪ জোড়া সন্ত্রাসীদের ইউনিফর্ম ও চাঁদাবাজির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিশিয়াল এক বিবৃতিতে বলা হয়, সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান, এসবিপি ২৮ বীর, রুমা জোনের একজন দায়িত্বশীল সিনিয়র জেসিও ছিলেন। তিনি সৎ, মেধাবী, কর্মঠ ও দক্ষ একজন সৈনিক হিসেবে দীর্ঘদিন অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন।গত ০১ ফেব্রুয়ারি বান্দরবান রিজিয়নের অধীনস্থ রুমা জোনে সন্ত্রাসী অবস্থানের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তার নেতৃত্বে একটি টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। রাত আনুমানিক ১০ টায় সন্ত্রাসীদের অতর্কিত গুলিবর্ষণের মুখে পড়লেও তিনি অসীম সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে ঘটনাস্থলেই ৩ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসীর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এতে সন্ত্রাসীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে গোলাগুলির একপর্যায়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি বুকে ও মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে ঘটনাস্থলেই শাহাদাত বরণ করেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে ১টি এসএমজি, ২৭৫ রাউন্ড তাজা গুলি, ৩টি ম্যাগাজিন, ৩টি দেশীয় বন্দুক, ৫ রাউন্ড দেশীয় বন্দুকের গুলি, ৪ জোড়া সন্ত্রাসীদের ইউনিফর্ম ও চাঁদাবাজির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশমাতৃকার নিরাপত্তা ও পার্বত্য অঞ্চলে স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিজের জীবন উৎসর্গকারী এই বীর সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ ও বীরত্ব সকলের জন্য গর্বের ও অনুকরণীয়। তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সেনাবাহিনী পদক (এসবিপি) প্রাপ্ত হন।