রোকনুজ্জামান সবুজ জামালপুরঃ জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায় চলতি রবি মৌসুমে কৃষকের মাঠে-মাঠে সবুজের মাঝে ফুটে আছে হলুদ সরিষা ফুল। শীতের হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়ছে সুবাস। মধু আহরণে ফুলে-ফুলে বসছে মৌমাছি। সেই সাথে সরিষার হলুদ ফুলে মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। যত দূর চোখ যায়,হলুদ রঙে রঙিন চারপাশ। যত দূর চোখ যায় হলুদের সমারোহ, অন্যদিকে মৌমাছির আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা। স্থানীয় সরিষা চাষি আব্দুল সামাদ ও মোরাদুজ্জামান মোরাদ বলেন,চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে সরিষা গাছের বৃদ্ধি ও ফুল ফোটার অবস্থা অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। তিনি জানান,ঘন কুয়াশার কারণে সামান্য ক্ষতির আশঙ্কা থাকলেও যদি বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে,তাহলে এ বছর সরিষা চাষ করে অধিকাংশ কৃষকই ভালো লাভবান হতে পারবেন। এদিকে সরিষা ফুলের সমারোহে মৌমাছির বিচরণ বেড়ে যাওয়ায় মধু উৎপাদনের সম্ভাবনাও উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। মধু সংগ্রহকারী হোসেন রানা মৌয়ালরা জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে সরিষার আবাদ হওয়ায় এ বছর মধু সংগ্রহের সুযোগ বেড়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মৌয়ালরা এ অঞ্চলে এসে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল জানান, চলতি রবি মৌসুমে ইসলামপুর উপজেলায় সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৬ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে অর্জিত হয়েছে প্রায় ৬ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে চাষ। তিনি আরও জানান, প্রতি হেক্টরে গড়ে প্রায় ১ দশমিক ৫ টন সরিষা উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, এ বছর সরিষার ভালো ফলনের সম্ভাবনা ও মধু উৎপাদন উভয় ক্ষেত্রেই ইসলামপুর উপজেলার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এর ফলে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাবে এবং সামগ্রিকভাবে এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।