May 31, 2026, 12:26 am
শিরোনামঃ
সাব-রেজিস্ট্রারদের নিয়ন্ত্রক এখন টুকুর পিএস আবু বকর ! গ্রাবজো রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন ষড়যন্ত্রের শিকার এলজিইডি অফিস সহকারী হারুন:সম্মানহানির উদ্দেশ্যে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা প্রধানমন্ত্রীকে দুটি দুর্লভ ছবি উপহার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাব-রেজিস্ট্রার মাইকেলের হাজার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ! এ এম স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত এ এম স্কুল এ্যান্ড কলেজে রঙে-ঐতিহ্যে বর্ণিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের দুর্নীতির নেপথ্যে রমজান-মাইকেল চক্র নরসিংদীর২২তম জেলা প্রশাসক- ইসরাত জাহান কেয়া মাধবদী থানায় সেবার নতুন দিগন্ত: ওসি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

রামগতিতে প্রশাসনের অভিযান ইটভাটা বন্ধ হলে বেকার হবে লক্ষাধিক শ্রমিক; চুরি,ডাকাতিসহ অপরাধ বৃদ্ধির আশঙ্কা

Reporter Name

কমলমগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলীয় অঞ্চল “রামগতি” উপজেলা। মেঘনা নদী বেষ্টিত এ উপজেলায় সাড়ে ৭ লাখ জনগোষ্ঠীর বাস। এসব মানুষের মুলত পেশা হচ্ছে কৃষি কাজ, নদীতে মাছ শিকার কিংবা ইটভাটায় শ্রম দেওয়া। এই তিনটি পেশার উপর নির্ভর করে্ই জীবন ধারণ করছে চরাঞ্চলের এই মানুষগুলো। জানা যায়, রামগতিতে ৫১টি ইটভাটা থাকলেও ইতোমধ্যে বিভিন্ন কারণে ৭ টি ইটভাটা বন্ধ হয়ে গেছে। এসব ভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক শ্রমিক। আর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে এ শিল্পে জড়িত রয়েছে আরও ৫০ হাজার লোক। সব মিলিয়ে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষের আয় রোজগারের একমাত্র মাধ্যম ইটভাটাগুলো। তবে ইটভাটার ক্ষতিকর দিক বিবেচনায় করে এ শিল্পকে সরকারের নীতিমালার আওতায় এনে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আর্থসামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার দাবি জানান স্থানীয়রা। স্থানীয়রা বলছেন, ফসলি জমিরেআশপাশে ইটভাটা স্থাপন একদিকে যেমন ক্ষতি রয়েছে, অন্যদিকে ইটভাটায় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর উপকরারও রয়েছে। দুই দিক বিবেচনা করে এই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা। এদিকে গত বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) রামগতি উপজেলায় অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতর যৌথভাবে সপ্তাহব্যাপী অভিযান শুরু করে। প্রথম দিনের অভিযানে উপজেলার চর আফজাল এলাকায় তিনটি অবৈধ ইটভাটা গুড়িয়ে দেয়া হয়।এই অভিযানে জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ছিলেন র্যা ব-১১ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। অভিযান চলাকালে আমানত ইটভাটা, জেসমিন সারোয়ারসহ তিনটি অবৈধ ইটভাটার চুল্লি, চিমনি ও কাঁচা ইট ৫টি ভ্যাকু মেশিনের সাহায্যে বিনষ্ট করা হয়। এসময় ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চলাকালে ইটভাটার শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ জানান। ওই সময় প্রায় দু’ঘন্টা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন তারা । এসময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বলেন, এ অঞ্চলে বর্তমানে কোন কাজকর্ম নেই। ভাটাগুলো বন্ধ হলে হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। এঅবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের মানবিক দৃষ্টি কামনা করছেন তারা। অন্যথায় তাদের জীবিকা নির্বাহের এই মাধ্যমটি কোন ভাবেই বন্ধ করতে দিবেনা শ্রমিকরা। সচেতন মহল বলছেন, হঠাৎ করে দেশীয় ইটভাটা বন্ধের সিদ্ধান্তে চরম বেকারত্বের ঝুঁকিতে পড়বে ইটভাটার সাথে জড়িত এ অঞ্চলের প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক। ভাটাগুলো বন্ধ হলে এসব শ্রমিক বেকার হয়ে নানা অপরাধ কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। লাখো শ্রমিকের বেকারত্বের দিক বিবেচনা করে ইটকে শিল্প হিসেবে নিয়ে নীতিমালার আওতায় আনা খুবই জরুরি বলে মনে করছেন বিষ্টিজনরা। চররমিজ ইউনিয়নের আমানত ব্রিকফিল্ডের শ্রমিক আবদুল গনি বলেন, আমরা বছরের প্রায় ৬ মাস এ সকল ফিল্ডে কাজ করি। মেঘনা নদীতে মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা রক্ষা সহ অভয়াশ্রমের কারণে বছরের প্রায় ৫ মাস বেকার থাকতে হয়। ওই সময়ে আমরা ইটভাটায় কাজ করি। ভাটা বন্ধ হলে আমাদের সংসার চলবে কিভাবে?। বউ ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমরা খাব কি? চরআফজল গ্রামের ওহাব ব্রিকসের শ্রমিক আব্দুজ জাহের বলেন,আমাদেরকে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে তার পর ইটভাটা বন্ধ করেন। ইটভাটা বন্ধ করলে আমরা খাবো কি? ছেলে মেয়ে মা বাবা নিয়ে কই যাবো?। অভাবে তাড়নায় আমরা যদি কোন অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ি, তখন এই দায়িত্ব কার ওপর বর্তাবে, এমন প্রশ্নও করেন তিনি। সমাজকর্মী মোঃ রায়হান বলেন, ইটভাটার পজিটিভ ও নেগেটিভ দুই সাইট রয়েছে। হঠাৎ করে এসব ভাটা বন্ধ করলে হাজার হাজার শ্রমিক চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। বেকারত্বের ঝুঁকি নিয়ে গ্রামে-গঞ্জে চুরি ডাকাতি ও মাদক সহ সামাজিক অপরাধে জড়িয়ে পড়বে। বাড়বে অপরাধ প্রবণতা। এবিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে সরকার ও প্রশাসনকে। এবিষয়ে রামগতি উপজেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মোঃ খলিল ও সাধারণ সম্পাদক সানাউল্যাহ বলেন, আমাদের দুজনের মালিকীয় ব্রিকফিল্ডগুলো পরিবেশ বান্ধব ঝিগঝাগ। তবে এ উপজেলায় আরো ৪৪ টি ইটভাট রয়েছে। হঠাৎ করে ইটভাটা বন্ধ করে দিলে এ শিল্পে বিরূপ প্রভাব পড়বে। বেকার হয়ে পড়বে অর্ধলাখ শ্রমিক। এসব বেকার শ্রমিকরা জড়িয়ে পড়বে নানান অপরাধে। তাই আমরা দাবী করছি, ইটভাটাগুলো ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে বন্ধ করা হোক। এবং সরকারের নীতিমালার মধ্যে এনে পরিচালনা করা হউক। এতে মালিক-শ্রমিক উভয়েই পর্যায়ক্রমে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে নিতে পারবে। লক্ষ্মীপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান বলেন, মুলত গড়ে উঠা এসব ইটভাটায় হাজার হাজার শ্রমিক রয়েছে। মানবিক দিক বিবেচনায় করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি সরকারের নির্দেশনাও পালন করতে হয়। সব দিক মাথায় রেখেই আমরা কাজ করছি। রামগতির ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন বলেন, এ অঞ্চলের ইটভাটায় প্রচুর পরিমাণ শ্রমিক রয়েছে। বেকারত্ব ও মানবিক বিষয়টিও তাদের মাথায় রয়েছে। আবার সরকারের নির্দেশনাও মানতে হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page