July 29, 2026, 4:54 pm
শিরোনামঃ
গ্রাবজো রেস্টুরেন্টের উদ্বোধন ষড়যন্ত্রের শিকার এলজিইডি অফিস সহকারী হারুন:সম্মানহানির উদ্দেশ্যে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা প্রধানমন্ত্রীকে দুটি দুর্লভ ছবি উপহার মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ এম স্কুল এন্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও দোয়া অনুষ্ঠিত এ এম স্কুল এ্যান্ড কলেজে রঙে-ঐতিহ্যে বর্ণিল আনন্দ-উচ্ছ্বাসে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত নরসিংদীর২২তম জেলা প্রশাসক- ইসরাত জাহান কেয়া মাধবদী থানায় সেবার নতুন দিগন্ত: ওসি কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বদলে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কালীগঞ্জে ইস্টার সানডে উপলক্ষ্যে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সরকারি জমি আত্মসাৎ মামলায় সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন ২০ মে মাদারীপুরে ৪দিনের অনশনে ফিরে পেলেন স্ত্রী

ওলিয়ে কামিল হযরত শাহ্ আজম রহ. এর সংক্ষিপ্ত জীবনী

Reporter Name

মোতাহির আলী : জন্মঃ ওলিয়ে কামিল হযরত শাহ্ আজম রহ. ১৮৯৬ সালে ভানুগাছের রামপাশা গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত ধার্মিক পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর সম্মানিত পিতা শেখ মোহাম্মদ ধনাই মিয়া তাঁর মমতাময়ী “মা”  হালিমা বিবি।

শিক্ষা জীবনঃ হযরত শাহ্ আজম রহ. তিনি পারিবারিক ভাবে প্রথমে মক্তবী শিক্ষা অর্জন করেন। এরপর তিনি তাঁর বাড়ীর পাশেই প্রাইমারী স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা খুবই গুরুত্বের সাথে অর্জন করেন।
হযরত শাহ্ আজম রহ. তিনি স্থানীয় মাদ্রাসায় উচ্চ শিক্ষা অর্জন করেন।

কর্মজীবনঃ কর্মজীবনে হযরত শাহ্ আজম রহ. তিনি অত্যন্ত ধার্মিক একজন আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তি ছিলেন, চাকুরী নামক পেশায় তিনি তেমন কোন আগ্রহ ছিল না। তাঁর নেশা ছিল মানুষের সেবা করা। আর নিজে আল্লাহ তাআলাকে চিনা এবং মাুনষকেও আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মূখী বানানো। এই নেশায় তিনি তাঁর জীবন মিশন শুরু করেন। তিনি দ্বীনি খেদমতে তাঁর জীবনকে উৎসর্গ করেন। তিনি বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ, মাদ্রাসা, খানকাহ, রাস্তা ঘাট, পুল কালবার্ট নির্মাণ করেন। কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের ভানুবিল গ্রামে একটি রাস্তা তিনি নির্মাণ করে দেন। রাস্তা টি ভাঙ্গা ও বড় জলাশয়ে গভীর ছিল তৎকালীন সময়ে তিনি রাস্তার মাঝে প্রচুর পরিমান মাটি এনে ভরাট করে রাস্তাটি যাতায়াতের উপযুক্ত করে দেন। বর্তমানে এলাকা বাসী সকল মিলে রাস্তাটির নামকরণ করেন ভানুবিল হযরত শাহ আজম রহ. রোড। এবং বকশি টিলা মাজার ও মসজিদের ওয়াল বন্দী বা  বাউন্ডারী তিনি করেন দেন। তিনি মৌলভীবাজার জেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের গয়গড় গ্রামে ১৪৭৬ ইংরেজী সালে জংলাবৃত্ত ভগ্নস্তূপ ঐতিহাসিক খোজার মসজিদ সংস্কার করেন, মসজিদটি জংলা স্তুপে ছিল তিনি নিজে সেই মসজিদকে উম্মুক্ত ভাবে বাহির করেন, বর্তমানে এলাকাবাসী মিলে খোজার মসজিদটির ব্যাপক উন্নয়নমূলক কাজ করান। মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপেও কিছুটা উন্নয়নমূলক কাজ হয়। ঐতিহাসিক খোজার মসজিদটি দেখার জন্য বহু দূরদূরান্ত থেকে অনেক মুসল্লীগণ আসেন। পাশে আছে সুবিশাল কবরস্থান। মসজিদের ভিতরে আছে ওয়ালে লেখা শিলালিপিতে কারুকার্যময়। আজ পযর্ন্ত কি লেখা আছে কেউই সঠিক ভাবে পড়তে পারে না। মসজিদের দেওয়ালে আছে বাঘের থাবা। মসজিদের পাশেই আছে ছোট একটি পুকুর ওলিয়ে কামিল পুকুরটি খনন করান পুকুরে কই, মাগুর মাছ ছিল। এবং মসজিদের গম্বুজ তৈরী করেন, পাশ্ববর্তী মৌলভীবাজার খালিশপুর গ্রামে আড়াই কেদার জমির উপর গদ্দীবাড়ী স্থাপন করে তরিকায়ে কাদেরিয়া খানকাহ্ ও গদ্দীমোবারক প্রতিষ্ঠা করেন। বর্তমানে এখানে প্রতি বৃহস্পতিবার জিকির আজকার ও খাস দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এই খানকাহ এর যে জায়গাটি আছে সমস্ত জায়গা বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহ. এর নামে তিনি ওয়াকফ করে দেন। নিকটবর্তী সরাপুর গ্রামে ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম সফর সঙ্গী হযরত শাহ ফাত্তাহ্ রহ. মাজার সংস্করণ ও মাজারের পাশেই একটি ফুরকানীয়া মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। যাতে এলাকার ছোট ছোট বাচ্চারা মক্তবী শিক্ষা অর্জন করতে পারে। সেখানে একটি পুকুরও খনন করেন যাতে লোকজনের সুবির্ধাথে জিয়ারতকারী ও মক্তবের ছাত্ররা ওজু করতে পারেন। নিকটবর্তী ঘোড়াখাল গ্রামে ৩৬০আউলিয়ার অন্যতম ওলি হাজী রসুল রহ. এর মাজার শরীফ সংস্করণ ও মাজার সংলগ্ন জিয়ারতকারীদের ওজু করার সুবির্ধাথে একটি পুকুর খনন করান। কমলগঞ্জ উপজেলার কাঠাল কান্দি গ্রামে মরহুম আব্দুল লতিফ সাহেবের জমির উপর একটি ফুরকানীয়া মক্তব প্রতিষ্ঠা করে মক্তবটি তিনি নিজ অর্থে পরিচালনা করেন। আদমপুর এলাকার ভানুবীল গ্রামে গভীর জলাশয়ের মধ্যে মাটি ভরাট করে দীর্ঘ রাস্তা নিমার্ণ করেন। জাঙ্গালিয়া গ্রামে মোকামটিলায় কবরস্থান ও জানাযার মাঠের উন্নয়ন সহ হযরত শাহ্ ইয়াবাদশাহ্ রহ. এর অজ্ঞাত  মাজারটি সন্ধান বাহির করেন এবং পুকুরের ঘাট পাকা করেন ওযু করার সুবিধার্থে।

ভারত কৈলা শহর তাঁর মুর্শিদ  হযরত মাওলানা শাহ্ ইয়াসিন রহ. এর মাজার শরীফ সংস্কার ও জিয়ারতকারীর সুবিধার্থে মাজার সংলগ্ন পুকুরেরবঘাট পাকা করান।
নোয়াখালী জেলার নন্দনপুর তাঁর দাদা মুর্শিদ হযরত মাওলানা শাহ খলিলুর রহমান নন্দনপুরী রহ. সাহেব বাড়ীর সম্মুখে বিরাট একটি খানকাহ্ ঘর নির্মাণ করেন। আরো তিনটি ঘরের জন্য টিন ক্রয় করে দেন। কমলগঞ্জের ভানুগাছে তাঁর নিজ জন্মস্থান কুমড়াকাপন গ্রামে তাঁর বড় বোনের বাড়ি মোকামবাড়ীতে হযরত কলীম শাহ্ রহ. ও হযরত ইসমাইল শাহ্ রহ. নামক দুইজন সন্মানিত ওলির কবরস্থান ওয়ালবন্দী এবং গেইট নির্মাণ করেন। এছাড়াও তিনি বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ, মাদ্রাসা, মক্তব,খানকাহ্, মুসল্লীগন ওজু করার সুবির্ধাথে পুকুর খনন সহ সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় সাদাকাহে জারিয়া মূলক কাজ করেন।

সাংসারিক জীবনঃ উল্লেখ করা আবশ্যক যে ওলিয়ে কামিল হযরত শাহ্ আজম রহ. ১৮৯৬ ইং সনে জন্ম গ্রহন করে মাত্র ৩৩ বছর সাংসারিক জীবন অতিবাহিত করে ১৯২৯ ইং সন হইতে সংসার ত্যাগী অবস্থায় তিনি বিভিন্ন স্থানে ভ্রমণ শুরু করেন। এ হিসেবে দেখা যায় পীর ছাহেবের সাংসার ত্যাগী জীবন ৫০ বছর। সুদীর্ঘ ৫০ বছরই দ্বীনের জন্য মেহনত করে গেছেন। সাংসারিক জীবনে তাঁহার ২ ছেলে ও ১ মেয়ে ছিল। তাঁর বড় ছেলের নাম মোহাম্মদ আছরব উল্লাহ, ২য় ছেলের নাম মাওলানা শাহ্ মোহাম্মদ মোশাররফ আলী। এক মেয়ে ছিল। তার নাম ছিল আছতরী বিবি। কেউই আজ এই পৃথিবীতে নাই।

তাঁর ইবাদত বন্দেগী ও তাকওয়াঃ ওলিয়ে কামিল হযরত শাহ্ আজম রহ. ছিলেন খুবই সহজ সরল প্রকৃতির অসাধারণ লোক।তিনি খুবই ধার্মিক ও আল্লাহ ওয়ালা ব্যক্তি ছিলেন। সব সময় তিনি আল্লাহ তায়ালাকে স্মরণে ধ্যানে খেয়ালে রাখেন এটা তার অভ্যাস ও স্বভাব ছিল। তিনি যখন আল্লাহ আল্লাহ বলে শ্বাস টান দিতেন তখন মনে হতো তিনি আর তার মাঝে নেই শ্বাস টান দেওয়ার পর ৪০/৪৫ মিনিট তিনি স্তব্ধ থাকতেন। তিনি নিরব থাকতেন তার মাবুদকে তিনি খুবই মহাব্বাতের সাথে স্মরণ করতেন। মনে হতো তিনি আর দুনিয়া থেকে ইন্তেকাল করেছেন এমন ভাবে তিনি আল্লাহ তায়াকে ইয়াদ করতেন। তার জবানে শুধু আল্লাহ আল্লাহ আল্লাহ শব্দের জিকির অবিরাম  চলতো। সাথে সাথে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর মহাব্বত তিনি অন্তরে লালন করতেন আর মনে মনে শুধু পড়তেন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ। যখন তার সাথে তার কোন ভক্তবৃন্দ আশেকান থাকতেন তিনি যখন জিকির করতেন মনে হতো তার এই  জিকিরে আল্লাহ তায়ালাকে দেখছেন এত মহব্বত নিয়েই তিনি জিকির আজকার করতেন। এই কথা ভক্তবৃন্দ আশেকানগন বলতেন। আল্লাহ তায়ালাকে পাওয়ার জন্য তিনি ঘরবাড়ি সংসার তাহলে আমাকে গুরুত্ব না দিয়ে তিনি মাওলার সন্তুষ্টি সব সময় তিনি চেয়েছেন পরিবার পরিজনকে কোন সময় তিনি দুনিয়ার মুহাব্বত তাকে আকৃষ্ট করতে পারে নাই। তিনি সব সময় আল্লাহ ও তার রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কিভাবে খুশি ও সন্তুষ্ট রাখা যায় এই এই ধ্যানে তিনি তার জীবন পরিচালনা করেছেন এবং তার ভক্তবৃন্দ, আশেকানগণকে ও এভাবে পরিচালনা করেছেন।

বাইয়াত ও ইজাজতঃ হযরত শাহ্ আজম রহ. ভারত কৈলাশহর নিবাসী পীরে কামেল বিশিষ্ট কবি হযরত আল্লামা শাহ্ ইয়াছিন রহ. নিকট তিনি বাইয়াত গ্রহন করেন। এবং হযরত আল্লামা শাহ্ ইয়াসিন রাহমাতুল্লাহি আলাইহি এর একমাত্র খলিফা হযরত শাহ্ আজম রহ.। তিনি অন্য কেউকে খেলাফতি দান করেন নি।

হযরত শাহ আজম রহ. এর দাদা পীর ছাহেব হলেন, নোয়াখালী জেলার লক্ষ্মীপুর নিবাসী ওলিয়ে কামিল হযরত মাওলানা শাহ খলিলুর রহমান নন্দনপুরী ছাহেব  রহ.।

হযরত শাহ্ আজম রহ. মাজার শরীফঃ পীরে কামেল হযরত শাহ আজম রহ. মাজার শরীফ অবস্থিত মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ পৌরসভার ০৮ নং ওয়ার্ডে রামপাশা আংশিক গ্রামে অবস্থিত।

তাঁর নামানুসারে দ্বীনি প্রতিষ্ঠানঃ মৌলভীবাজার জেলায় মুস্তফাপুর ইউনিয়নে ঐতিহ্যবাহী গয়গড় গ্রামে ঐতিহাসিক গয়গড়  খোজার মসজিদ সংলগ্ন হযরত শাহ্ আজম রহ. ও হযরত হাসান আলী হাফিজি মাদ্রাসা  ও কমলগঞ্জ উপজেলায় হযরত শাহ আজম রহ. দরগাহ্ শরীফ সংলগ্ন হযরত শাহ আজম রহ. দারগাহ্ জামে মসজিদ, হযরত শাহ্ আজম রহ. হিফজুল কুরআন দরগাহ্ মডেল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। আদমপুরের ভানুবীল গ্রামে তাঁর নামানুসারে একটি রোডে নামকরণ করা হয়। প্রতিদিন এই রোডে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করছে। সাদাকাহে জারিয়া মূলক প্রতিষ্ঠানগুলো দেশ ও প্রবাসীদের আন্তরিক দোয়া ও সাহায্য সহযোগিতায় কার্যক্রম চালছে।

মৌলভীবাজার খালিশপুরে গদ্দীবাড়ী নির্মাণঃ পীরে কামিল হযরত শাহ্ আজম রহ. তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় খালিশপুরে হযরত বড় পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহ. নামানুসারে গদ্দীবাড়ী ও জিকির আজকারের জন্য খানকাহ্ ঘর নির্মাণ করেন।

হযরত শাহ্ আজম রহ. তিনি তাঁর জীবদ্দশায় প্রতি বছর এই গদ্দীবাড়ীতে পবিত্র কুরআন শরীফের খতম, জিকির আজকার, ওয়াজ ও দোয়া মাহফিল করাতেন।

এই বাড়ীর সমস্ত জায়গায় বা সম্পদ ( প্রায় আড়াই কেদার) হযরত বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহ. নামে হযরত শাহ্ আজম রহ. ওয়াকফ করে দেন। হযরত শাহ্ আজম রহ. তিনি একজন দুনিয়া বিমুখ আল্লাহ তাআলার ওলি ছিলেন। কারণ তিনি জীবিত থাকতে তাঁর জন্য কিছুই করেন না। আল্লাহ তাআলা কে কিভাবে সন্তুষ্টি করা যায় এই মনে নিয়েই দ্বীনের কাজ করতেন।।

ইন্তেকাল : ওলিয়ে কামিল হযরত শাহ্ আজম রহ. এই অস্থায়ী দুনিয়া থেকে তিনি ১৩৮৬ বাংলা ২৯শে শ্রাবণ (রামাদ্বান) মাসে দুনিয়ার সফর শেষ করে তাঁর মালিকের ডাকে সারা দেন। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁর বান্দার সকল ভুল ত্রুটি ক্ষমা করে তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম নসিব করেন।
লেখকঃ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি শাহ মোহাম্মদ মোশাহিদ আলী আজমী ছাহেব (রহ.)।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Our Like Page