ফারুক হোসেন: জায়গা-জমির দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে নরসিংদী সদর হাসপাতালে কর্মরত এক ওয়ার্ড বয়/সহকারী, যিনি এলাকায় 'কামাল ডাক্তার' নামে পরিচিত, তার লোকজন নিয়ে দিনেদুপুরে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন নজরপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের দিলারপুর গ্রামের বাসিন্দা তপন মিয়া (বাইট্টা তপন)-এর উপর। মারাত্মক দেশীয় অস্ত্রের এলোপাতাড়ি কোপে তপন মিয়াকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে দ্রুত জেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয় এবং বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হামলার বিবরণ ও স্থানীয়দের উদ্বেগ বুধবার(৩ ডিসেম্বের) দিনেদুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, তথাকথিত 'কামাল ডাক্তার' দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রসহ দলবল নিয়ে তপন মিয়ার বাড়িতে চড়াও হন এবং তাকে লক্ষ্য করে আকস্মিক হামলা চালান। এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ কর্তৃক জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয়টি বেশ কয়েকবার সালিশ-দরবার করে মিমাংসা করা হলেও, হামলাকারী পক্ষ সেই মিমাংসা উপেক্ষা করেই এই নৃশংস ঘটনা ঘটায়। আহত তপন মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এলাকাবাসী সূত্রে খবর, এই ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এই হামলার পর থেকেই এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। কে এই 'কামাল ডাক্তার'?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় প্রতিবেশী জানান, এই হামলাকারী ব্যক্তি মূলত নরসিংদী সদর হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় বা সহকারী হিসেবে কর্মরত। তবে তিনি নিজেকে সবসময় সদরের একজন 'মস্তবড় ডাক্তার' হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন এবং এই পরিচয়েই তিনি এলাকায় 'কামাল ডাক্তার' নামে পরিচিতি লাভ করেন। তার এই পরিচয়ের সুবাদে, তিনি এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গদের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সখ্যতার প্রভাবে প্রবাহিত হয়েই তিনি আরও একাধিক অপকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন। এলাকার যেকোনো সালিশ, দরবার, বা মামলা-মোকদ্দমা তিনি 'ম্যানেজ' করতে বেশ পটু বলে দাবি করেন স্থানীয়রা। আর এই ক্ষমতার দাপটেই তিনি কাউকে পরোয়া করেন না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিচারের দাবি এলাকার অসহায়, গরীব, ও সাধারণ মানুষ এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে এই তথাকথিত 'কামাল ডাক্তার' এবং তার সহযোগীদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের জোর দাবি জানিয়েছেন।