
প্রাণভয়ে পুলিশের অনেক সদস্য আত্মগোপনে চলে যান। ফলে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার সময়কালে দেশের থানাগুলো অনেকটাই অরক্ষিত ও পুলিশবিহীন ছিল। এতে চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়ে যাওয়াসহ দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি ঘটে।
এ অবস্থায় জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে পুনরুজ্জীবিত করে মাঠে নামানোর ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও প্রতিশ্রুতি দেয় সরকার। ফলে ধীরে ধীরে দেশের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুলিশ সদস্যরা এতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করেন।
হেডকোয়ার্টার সূত্র জানায়, পুলিশের ১৪৩টি থানাসহ মোট ৪৫৪টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাসমূহের মেরামত করা হয়েছে। এর মধ্যে কোনো স্থাপনার কাজ এখনো চলমান। এ ছাড়া পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সারা দেশে অনলাইন জিডির (সাধারণ ডায়েরি) কার্যক্রম চালু আগের চেয়ে আরো বেগবান করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অ্যানড্রয়েড মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নাগরিকরা ঘরে বসেই জিডিসংক্রান্ত বিষয়ে তাৎক্ষণিক সেবা পাচ্ছেন। সাধারণ নাগরিকরা অনলাইন জিডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ লাখ জিডির আইনি সেবা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পুলিশে প্রযুক্তিনির্ভর সেবাসমূহ আন্তরিকতা ও পেশাদারির সঙ্গে পালন করা হচ্ছে।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) ইনামুল হক সাগর বলেন, অপরাধ নির্মূলে প্রো-অ্যাকটিভ পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। তা ছাড়া আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি পেট্রোলিংও বাড়ানো হয়েছে।
হত্যা মামলার আসামিসহ নিয়মিত মামলার আসামি গ্রেপ্তার, নারী-শিশু মামলার ভিকটিম উদ্ধার, মৃতদেহ শনাক্ত, আলামত উদ্ধার, অজ্ঞাত ব্যক্তি ও অজ্ঞাত মৃতদেহ শনাক্তকরণের কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাইবারজগতের অপরাধ শনাক্ত ও অপরাধী ধরতে সাইবার পেট্রোলিংও জোরদার করা হয়েছে।